
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | Katha24.com
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি পাইকারি এবং খুচরা বাজারে পণ্যের অযৌক্তিক মূল্য ব্যবধানের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন।
রোববার দুপুরে অনুষ্ঠিত ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: ভোজ্যপণ্য সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত পর্যালোচনা’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “বাজারে অগ্রহণযোগ্য দাম বৃদ্ধি এড়িয়ে চলতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, প্রশাসনের সদস্য এবং প্রয়োজন হলে অন্যান্য পেশাজীবীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ এখনও আমদানি নির্ভর দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বা পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে এর প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই দেশের বাজারে পড়ে। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণজনিত কারণে দাম অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি পেতে দেওয়া হবে না।
বিদেশী ফলের আমদানির বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, আপেল, আঙ্গুর ও কমলার মতো সাধারণ ফল মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা উচিত। এসবের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার প্রয়োজনে নীতিগত পদক্ষেপ নেবে। তবে বিলাসী ফলের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি ব্যবসায়ীরাই। সরকারের কাজ হলো ব্যবসা-বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাজার বাধাহীনভাবে পরিচালিত করতে সহায়তা করা। একই সঙ্গে বাজার তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানির শিকার না হওয়ার বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রমজান মাস উপলক্ষে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ করলে তা সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। চলতি রমজান মাসে ভোজ্যতেলের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে একটি ইতিবাচক উদাহরণ। তবে সীমিত বিক্রির অজুহাতে অতিরিক্ত দাম নেয়ার প্রবণতার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
সভায় খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুস সালাম সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভায় পাইকারি ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।